নিখোঁজের ৬ দিন পর শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২১ | আপডেট: ৬:৫৯:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২১

মেঘলা নিউজ ডেস্ক:  নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে ইসরাফিল হোসেন নামের এক শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, পরকীয়া প্রেম ও মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় ইসরাফিলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশটি স্থানীয় একটি কবরস্থানে পুঁতে রাখা হয়। পুলিশ ঘটনার ছয় দিন পর হত্যার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে আটক করার পাশাপাশি লাশটি উদ্ধার করেন

যশোর জেলা পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে এসব তথ্য জানান ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার-ডিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম।

নিহত ইসরাফিল যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বজলু মিয়ার ছেলে। তিনি আকিজ বিড়ি ফ্যাক্টরিতে দিনমজুরের কাজ করতেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন শার্শা উপজেলার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোশারফ হোসেন, একই গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে আলম ও ইসমাইলের স্ত্রী রোজিনা বেগম।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৭ আগস্ট ইসরাফিল হোসেন নিখোঁজ হন। পরে ২৯ আগস্ট তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে শার্শা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি করার পাঁচ দিনেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুপম কুমার সরকার, উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেন। বুধবার দুপুরে কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী কাশিয়াডাঙ্গা মোড়লবাড়ি বড় কবরস্থান থেকে ইসরাফিলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জাহাঙ্গীর আলম জানান, আটক রোজিনার ভাই বিদেশে থাকেন। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ইসরাফিল। এ জন্য তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রোজিনা। হত্যার জন্য তিনি মোশারফের সঙ্গে দেড় লাখ টাকার চুক্তি করেন। সে অনুযায়ী ইসরাফিলকে বাড়ি থেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাঁকে মাদক সেবন করিয়ে অজ্ঞান করা হয়।

পুলিশ জানায়, পরকীয়া ছাড়াও পারিবারিক জায়গাজমি ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের এবং মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ইসরাফিলকে হত্যা করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন নূর আলম ও মেহেদী নামের অপর দুই যুবক। মেহেদী ওই গ্রামে বসবাস করেন। তবে তাঁকে এখনো আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে এ হত্যার ঘটনায় শার্শা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় আটক তিনজন ছাড়াও আরও তিনজন ও অজ্ঞাত আরও দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) বেলাল হোসাইন, যশোর ডিবি পুলিশের ওসি রুপম কুমার সরকার।

বিজ্ঞাপন
Add Custom Banar 2
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Medical add